শিরোনাম:

পাকিস্তানের সিরিয়ালে রবীন্দ্র সংগীত, নেটমাধ্যমে হইচই

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, জুন ৭, ২০২১
  • 6 পড়া হয়েছে
পাকিস্তানের সিরিয়ালে রবীন্দ্র সংগীত, নেটমাধ্যমে হইচই
পাকিস্তানের সিরিয়ালে রবীন্দ্র সংগীত, নেটমাধ্যমে হইচই

সীমানা ছাড়ায় রবীন্দ্র সংগীত। এ আর নতুন কথা কি! কবেই তো তা ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত ছাড়িয়ে ছড়িয়ে গেছে গোটা বিশ্বে। কিন্তু তাই বলে পাকিস্তানে? যে পাকিস্তান ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রকবিতা ও গান নিষিদ্ধ করেছিল। যে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং এখনকার বাংলাদেশ গর্জে উঠেছিল, পরে মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল রবীন্দ্রনাথের গান। সময় বদলেছে। সময় বদলের প্রতীক হিসেবে সেই পাকিস্তানের সিরিয়ালে ব্যবহার করা হলো রবীন্দ্র সংগীত,‌ ‘আমার পরান যাহা চায়’। আর এই ঘটনার কথা সামনে আসার পরই নেটমাধ্যমে হইচই পড়ে গেছে।

এই গানের ভিডিওটি প্রথম শেয়ার করেছিলেন পাকিস্তানের পরিচালক মেহরিন জব্বার। তিনিই ‌‘দিল কেয়া করে’-র পরিচালক, যেখানে এই রবীন্দ্র সংগীতটি ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, শর্বরী পান্ডে গানটি গেয়েছেন। আর ধারাবাহিকের প্রধান চরিত্রের নামও দিয়েছেন তিনি। তারা হলেন, ফিরোজ খান, ইয়ামনা জেইদি, মরিয়াম নাফিজ এবং জেইন বেগ। ইনস্টা ও ফেসবুকে তিনি তা শেয়ার করেন।

খুবই উল্লেখযোগ্য হলো, এখানে রবীন্দ্র সংগীতটি বাংলাতেই নেওয়া হয়েছে। এরপর তা টুইটার ফেসবুকে ঘুরতে থাকে। শুরু হয়ে যায় আলোচনা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চারজন সোফায় বসে আছেন। এক নারী গানটি গাইছেন। অন্যরা মুগ্ধ হয়ে শুনছেন।
গায়ক রূপঙ্কর বাগচী মনে করেন, যে পাকিস্তানি পরিচালক রবীন্দ্র সংগীত ব্যবহার করেছেন, তিনি খুব স্বাভাবিক কাজ করেছেন। রূপঙ্কর বলেন, ‘তাকে আলাদা করে বাহবা দিচ্ছি না। রবীন্দ্রনাথ বাঙালি বা ভারতীয় নন। তিনি গোটা পৃথিবীর। রবীন্দ্রনাথের গান পাকিস্তানের সিরিয়ালে ব্যবহার হওয়াটাই স্বাভাবিক।’ তার মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে অন্য যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়, কূটনৈতিক, খেলার বা সামরিক, সেগুলোই অস্বাভাবিক।

বাংলাভাষার অধ্যাপক আশিস চক্রবর্তী কিন্তু মনে করেন, এটা বিস্ময়কর ব্যাপার। বিশেষ করে ইতিহাস মনে রাখলে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান তার ট্যাবু ভেঙে বেরোচ্ছে। ওরা বাংলায় রবীন্দ্রনাথ ব্যবহার করছে, এটা অবাক করার মতো বিষয়। এ নিয়ে অনেক প্রশ্নও মনে জাগছে। তবে আশিসের মতে, ‘রবীন্দ্রনাথ আমাদের উদার চিন্তা শিখিয়েছেন। কিন্তু ভারত উদার ধারণাটাকে ভেঙে সংকীর্ণতার দিকে যাচ্ছে। এটাই মনে লাগে।’

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *