আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ এর অন্তর্ভুক্ত ৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম জীবন এর আয়োজনে দোয়া ও তোবারক বিতরন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেন, সবুজবাগ থানা আওয়ামী নেতা আক্তারুজ্জামান মিথুন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাসেল, সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগ নেতা খাইরুল আমিন মিঠুসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগষ্ট নিহত সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে অবিলম্বে পলাতক খুনীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানচিত্রের মহানায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারই স্বপ্নের বাংলাদেশ বির্নিমানে কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের আশার বাতিঘর, উন্নয়নের বাংলাদেশ এর কারিগর শেখ হাসিনা। আমরা প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করবেন, তাহলেই সোনার বাংলাদেশ দ্রুত সব সমস্যা মোকাবেলা করে সমৃদ্ধির বাংলাদেশে পরিণত হবে।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করে দিনটি। তবে এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।
পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ ও মেয়ে বেবি, সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে মহান আল্লাহর দরবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
দেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতেও জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছে।