শেরপুরে বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ও ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে চেল্লাখালী নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার (১৯ জুলাই) মধ্যরাত থেকে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৫০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে রোপা আমনের বীজতলা ও সবজিক্ষেত।

এদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানির তোড়ে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়ক ডুবে যাওয়ায় তিনদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে বিকল্প রাস্তা হিসেবে বলায়ের চরের ভেতর দিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল করছে।

এক সপ্তাহের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর পানি বেড়েছে, যা বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার ৫০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।

শেরপুর সদরের সাত ইউনিয়ন, নালিতাবাড়ীর চার ইউনিয়ন ও শ্রীবরদী উপজেলার দুই ইউনিয়নের নতুন নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষ বর্তমানে নৗকা ও কলার ভেলা বানিয়ে যাতায়াত করছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের ঘরে পানি ওঠায় কেউ উচুঁ স্থানে কেউ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। বাড়িতে পানি ওঠায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে অনেকে। শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্যের সঙ্কট রয়েছে পানিবন্দি মানুষের।

শেরপুর সদরের চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের কুলুরচর-বেপারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আকমল হোসেন, লাল মিয়া, রমজান আলী, ফকির মিয়া বলেন, বাড়িতে পানি ওঠায় আমরা এখন জামালপুর শহররক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু আমাদের খাবার সঙ্কট, বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট রয়েছে। এছাড়া গরু-ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে আছি আমরা। আমরা সরকারি সহযোগিতা চাই।

জেলা খামারবাড়ির উপপরিচালক মোহিত কুমার দে বলেন, বন্যায় ৩৮০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ৯০ হেক্টর সবজি, ৩০ হেক্টর পাট ও ১৩০ হেক্টর আউশসহ মোট ৬২৫ হেক্টর জমির এসব পানিতে তলিয়ে গেছে। যদি আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে পানি নেমে যায় তাহলে তেমন ক্ষতি হবে না। পানি দ্রুত না নামলে কৃষকের ক্ষতি হবে।

শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়ালীউল হাসান বলেন, বন্যাকবলিতদের জন্য শেরপুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ আড়াই লাখ টাকা ও ১৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে; যা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।