বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের গাণিতিক আবহাওয়ার মডেলের তথ্যানুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এ সময়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, উত্তরাঞ্চলের ধরলা ও তিস্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদনদীগুলোতে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

তারা আরও বলছে, রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে দেশের সুনামগঞ্জে ১৯০ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ১০৮, ঢাকায় ১০১, কুড়িগ্রামে ৭৮, চিলমারীতে ১৪০, ভৈরব বাজারে ১০৭, রাজশাহীতে ১০১, রংপুরে ৬৮, নরসিংদীতে ১১১, দিনাজপুরে ১০৫, লরেরগড়ে ৮২ এবং ভাগ্যকুলে ৬৭ মিলিমিটার। একই সময়ে বাংলাদেশ সংলগ্ন ভারত অংশের চেরাপুঞ্জিতে ৩২৬, শিলংয়ে ৫৮ এবং দার্জিলিংয়ে ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, কুশিয়ারা ছাড়া দেশের সকল প্রধান নদনদীর পানি স্থিতিশীল আছে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকতে পারে। ঢাকা জেলার আশেপাশে নদীর পানি বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। অপরদিকে নাটোর, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরিয়তপুর ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে বা সামান্য উন্নতি হতে পারে।

বর্তমানে দেশের ১৬টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত। ১৪টি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপৎসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে ২৪টি স্টেশনে। সূত্র: জাগো নিউজ