হঠাৎ করে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়নে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো চরাঞ্চলের মানুষের ধান, পাট, বাদাম ও সবজি চাষের ফসলি জমি। এতে চরম বিপাকে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিলেন মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা।

চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত বন্দরখোলা, মাদবরেরচর, চরজানাজাত ও কাঠালবাড়ী ইউনিয়নে আকর্ষিক বন্যায় তলিয়ে গেছে ৩ হাজার হেক্টর জমির আমন ও আউস ধান, পাট, বাদাম ও সবজি। অতি দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেরিতে চাষ করা বাদাম ঘরে তুলতে পারেনি চাষীরা।
এদিকে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অপরিপক্ক পাট কাটতে বাধ্য হচ্ছে তারা। এতে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের মানুষ। এছাড়াও গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙ্গে গেছে আকস্মিক বর্ষায়। মাদবরচর শেখ জামাল সেতুর এপ্রোচ সড়কের দুটি স্থান ভেঙ্গে রাস্তায় চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অযোগ্য হয়ে পড়েছে যানবাহন চলাচলও। স্থানীয়ভাবে কোন মতে দুর্যোগকালে নিজ উদ্যোগে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধ করেছেন স্থানীয়রা।

মাদারীপুর কৃষি বিভাগের সূত্র মতে এ চার ইউনিয়নের ২ হাজার ১০ হেক্টর জমির পাট, ১৯৫ হেক্টর জমির আউস ধান, ৫৪ হেক্টর জমির আমন ধান, ১৫ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা ও ১৪৪ হেক্টর জমির বিভিন্ন সবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল জব্বার মিয়া বলেন, আমাদের ধান, পাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনও পাট কাটার সময় হয়নি তবুও অসময় কেটে ফেলতে হয়েছে। এছাড়াও ধান একেবারেই তলিয়ে গেছে। আরেক কৃষক খবির মোল্লা বলেন, বাদাম লাগিয়েছিলাম তা আর তুলতে পারিনি। বন্যায় আমাদের মত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে এমনটাই দাবি সরকারের কাছে।

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, অতি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হবে। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি সহায়তার পেতে পারেন।