ইউনাইটেডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা

ইউনাইটেড হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডে করোনা ইউনিটে থাকা পাঁচ রোগীর অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির চোয়ারম্যান, এমডি, প্রধান নির্বাহী, পরিচালক, দায়িত্বরত ডাক্তার নার্স ও সেফটি সিকিউরিটির দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিহত একজনের স্বজন। নিহত এন্থনী পলের মেয়ের স্বামী রোনাল্ড নিকি গোমেজ আজ বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার সত্যতা স্বীকার করে গুলশান থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা এস আই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আজ বুধবার রাত ৯টার দিকে ইউনাইটেড হাসপাতালের সিইও, এমডি, চিকিৎসক ও নার্সসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার বাদি রোনাল্ড রিকি গোমেজ জানান, ঘটনার দিন তিনি চাক্ষুস দেখেছেন ইউনাইটেডের কর্তাদের অবহেলা। দুইবার করোনা টেস্ট নেগেটিভ আসার পরও তার স্বজনকে ইচ্ছাকতভাবে রাখা হয় আইসোলেশন ইউনিটে।

চিকিৎসক ও প্রশাসকদের স্বেচ্ছাচারিতায় আরো কয়জন নন-কভিড রোগীকে সেখানে রাখা ছিল। অথচ তাদের করোনা নেগেটিভ ছিল। তাই এই ঘটনা ও পাঁচজন নিহতের পেছনে সম্পূর্ণ দায় ইউনাইটেড হাসপাতালের। এই কয়েকদিন পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কারণ মামলা করতে কয়েকদিন দেরি হয়েছে বলে জানান রোনাল্ড।

মামলার এজাহারে এন্থনী পলকে হাসপাতালে ভর্তির পর যা যা প্রত্যক্ষ করেছেন সবই উল্লেখ করেছেন। এছাড়া আইসোলেশন ইউনিটের এসিতে লাগা ছোট্ট আগুন দায়িত্বরতদের অবহেলায় কীভাবে বড় হয়ে পাঁচজনের জীবন কেড়ে নিল তার বর্ণনা করেছেন রোনাল্ড।

মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর তারা লাশ চট্টগ্রামে নিতে হবে দেখে দেড় দিন ইউনাইটেডের মর্গ ব্যবহার করে। এজন্য ন্যূনতম মানবিকতা না দেখিয়ে ইউনাইটেডের কর্মকর্তারা তাদের কাছে বিল দাবি করেন। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার জন্য দেড় লাখ টাকার ভাউচারও ধরিয়ে দেয়।

গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটিতে অগ্নিকাণ্ডে রোগী পুড়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় নিহতের স্বজনের পক্ষ থেকে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে।

এতে হাসপাতালটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ও পরিচালকসহ ৮টি পদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।