ফসলি জমি কেটে পুকুর খননের হিড়িক

তাড়াশে ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে পুকুর খনন করছেন অনেক জমির মালিকরা। মাছ চাষে ফসলের চেয়ে অধিক লাভ এবং তুলনামূলক ঝামেলাহীন বলে তারা মনে করছেন। এতে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। হুমকীর মুখে ২৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার আট ইউনিয়নে কমপক্ষে ৫০টির মতো পকুরের খনন কাজ চলমান। খোদ পৌর শহরের কাউরাইল ও সোলাপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠেই চলছে ১৫টি পুকুর খনন। পুকুর খনন করতে গিয়ে জমি মালিকরা গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের ব্রিজের মুখে মাটি দিয়ে পাড় বেঁধে দিচ্ছেন। প্রশাসনের ভয়ে দিনের আলোতে অধিকাংশ পুকুরের খনন কাজ বন্ধ থাকলেও রাতভর চলে মহাকর্মযজ্ঞ।

জমি মালিক কাজেম আলী, হারেছ উদ্দিন, সাজেদুল ইসলাম, আশরাফুল আলম, আরশেদ আলী জানান, ফসল উৎপাদনে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেও কাঙ্খিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। লাভের আসায় পুকুর খনন করে তুলনামূলক ঝামেলাহীন অর্থ উপর্জনের চেষ্টা করছেন তাদের মতো অনেকেই। এসব পুকুরে তারা নিজেরা মাছচাষ করছেন, আবার কেউ অর্থের বিনিময়ে মৎস্যচাষীদের কাছে লিজ দিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার লুনা জানান, তাড়াশে ছোট-বড় পাঁচ হাজারের মতো পুকুর থাকার পরেও প্রতিবছর এর আশঙ্কাজনক হারে সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ক্রমান্বয়ে জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্যতা নষ্ট হচ্ছে তেমনি পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। হুমকীর মুখে ২৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানাও করা হয়েছে।