বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

৩ মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে সব চ্যানেলের সম্প্রচার

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারিত হবে। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকের পর বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) নেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

অ্যাটকোর সদস্য ও ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) আমাদের টেকিনিক্যাল প্রতিনিধিরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসবেন এবং টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো দূর করার বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আশা করি, ২/৩ মাসের মধ্যে আমরা পুরোপুরিভাবে বাংলাদেশের সব চ্যানেল (টিভি চ্যানেল) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার করতে পারব -এটি আমাদের প্রত্যয়।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সম্পর্কে আমাদের কমিটমেন্ট আছে। আমরা অ্যাটকোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কমিট করেছি যে, আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে যাচ্ছি এবং যাব। ইতোমধ্যে অনেকেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।’

অ্যাটকোর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে সবকটি চ্যানেলই টেস্ট ট্রান্সমিশনে আছি। টেস্ট ট্রান্সমিশন চলাকালীন ফাইবার কানেক্টিভিটি যেহেতু ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ নানা কারণে মাঝে মাঝে ফাইবার কাটা পড়ার কিছু ঘটনা ঘটেছে। এ কনসার্নগুলো তাদের ব্যক্ত করেছি।’

স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষ বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বাড়াতে সম্মত হয়েছে জানিয়ে মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘দু-তিনটা বিকল্প লাইন থাকলে যাতে কোনো একটা এক্সিডেন্টালি কাটা পড়লেও কোনো অসুবিধা না হয়।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সর্বশেষ প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি স্যাটেলাইট। আমরা যে স্যাটেলাইট ব্যবহার করছি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে এর চেয়ে বেশি ভালো ছবি এবং ব্রডকাস্ট কোয়ালিটি পাচ্ছি। শুধু কমিউনিকেশন ফাইবার কানেক্টিভিটি সমস্যাটা দূর হলে আমাদের বর্তমান স্যাটেলাইট সম্পূর্ণ ডিসকানেক্ট করে দেব, এতে ৩০ থেকে ৬০ দিনের বেশি সময় লাগবে না বলে মনে হয়।’

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বলেছি, আমাদের ক্যাবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল করতে হবে। সেটির ব্যাপারে তারা অলরেডি ক্যাবল অপারেটরদের চিঠি দিয়েছেন। ডিজিটাল হওয়ার পরে আমাদের চ্যানেলগুলো পে-চ্যানেল হিসেবে কিছু সুযোগ পাওয়ার সুবিধা আমাদের সৃষ্টি হবে। ফলে আমাদের কিছু সংকট সমাধান হবে।’

মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘আপনারা জানেন, বর্তমান তথ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর আমাদের ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিরাজমান অনেক সমস্যা সমাধান হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে পেন্ডিং ছিল জন্মের ক্রমানুযায়ী টেলিভিশনের ডিস্ট্রিবিউশন সিরিয়ালের বিষয়টি। এটি আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলাম, এটা হয়নি। এখন সেটা কার্যকর হয়েছে।’

বিদেশি চ্যানেল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিদেশি চ্যানেলের ক্লিন ফিড যাতে সম্প্রচার করে এ ব্যাপারে সরকার কড়াকড়ি নির্দেশ জারি করেছে। তাদের চাপ দেয়া ও আলোচনা অব্যাহত আছে। সবক’টি বিদেশি চ্যানেল অচিরেই ক্লিন ফিড প্রচার করবে, যেখানে বাংলাদেশের কোনো বিজ্ঞাপন ও বিদেশি কোনো বিজ্ঞাপন ওভারফ্লো করবে না।’

বিদেশি চ্যানেলের ক্লিন ফিড (বিজ্ঞাপন বাদ দিয়ে শুধু অনুষ্ঠান) সম্প্রচারের বিষয়ে কোনো সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে কি না -জানতে চাইলে মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘ক্লিন ফিডের ক্ষেত্রে দুই ধরনের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন বিদেশে পাচার হয় এবং বিদেশি বিজ্ঞাপন বাংলাদেশে ওভারফ্লো করে। বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন বিদেশে পাচার হয় এটা শতভাগ বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, আমরা চেক করব। বিদেশি বিজ্ঞাপন বাংলাদেশে ওভারফ্লোর ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত ফাইন্ড টিউনিংয়ের ব্যাপার আছে। ওই চ্যানেলের ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে সরকার কথা বলছে। সরকার আশাবাদী, ক্লিন ফিডের বাইরে পর্যায়ক্রমে কোনো চ্যানেল থাকবে না।’

তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘টেলিভিশনের সম্প্রচারে ইতোমধ্যে যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেজন্য তারা (এটাকো নেতারা) সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন চ্যানেলে বিদেশি সিনেমা দেখানো হচ্ছে, এতে আমাদের কলাকুশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ডাবিংকৃত সিরিয়াল দেখানো হচ্ছে, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে নানা ধরনের সুপারিশ এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আমাদের গর্বের একটি স্যাটেলাইট, শুধু বিটিভি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচারে গেছে। ইতোমধ্যে ছয়টি টেলিভিশন চ্যানেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সেবাগ্রহণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বাকি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সহসা যাতে এ সেবাগ্রহণ করে -এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে অ্যাটকোর পক্ষ থেকে কিছু কনসার্নের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো আলোচনা করা হয়েছে। সভায় খুব সহসাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করবে বলে আলোচনা হয়েছে।’

কবে নাগাদ সব টিভি চ্যানেল চুক্তি সই করবে -জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খুব সহসাই। ডেডলাইন আজকে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। সেই সিদ্ধান্ত নেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষ। সবাই সম্মত হয়েছে, খুব সহসা চুক্তি স্বাক্ষর করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।’

সভায় তথ্য সচিব মো. আবদুল মালেক, বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুন-অর-রশিদ, বাংলা ভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল হক, সময় টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জুবায়ের, কাজী মিডিয়া লিমিটেডের (দীপ্ত টিভি) পরিচালক কাজী জাহিন এস হাসান উপস্থিত ছিলেন।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button